![]() |
| ভবন ‘খাদক’ ইউপি চেয়ারম্যান! |
এ ব্যাপারে রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ খান জানান, ওই ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনের কবলে পড়লে তা রক্ষার জন্য ভবনটি দুই লাখ টাকা সরকারি মূল্য ধরে নিলামে বিক্রির জন্য সকল উদ্যোগ নিতে বলা হয়। একই সঙ্গে পরিষদের জায়গায় বিভিন্ন প্রজাতির অর্ধশত গাছের দাম ৩ লাখ টাকা নির্ধাণ করে নিলামে বিক্রির কথাও বলা হয়। কিন্তু চেয়ারম্যান নিলামে বিক্রির কোনো আয়োজন না করে এবং উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত না করে নিজের উদ্যোগে পরিষদ ভবন ভেঙ্গে ফেলে। ভবনের যাবতীয় সরঞ্জামাদী ও সরকারি জায়গার সরকারি গাছগুলো গোপনে বিক্রি করে সমূদয় অর্থ আত্মসাৎ করে। তাকে বারবার সরকারিভাবে নির্দেশ দেওয়া হলেও কোনো পাত্তা দেননি তিনি। একইভাবে ইউনিয়ন পরিষদের ও নয়াচর বাজারের প্রায় ৩ হাজার ফুট ইটের রাস্তার ইট তুলে তা দিয়ে নিজের বাড়িতে দ্বিতল ভবন নির্মাণ কাজে লাগান। চেয়ারম্যানের ওই অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়টি গত আগষ্ট মাসে উপজেলা মাসিক সভায় কার্যতালিকাতে উঠানো হয়। এ ছাড়াও সরকারি সম্পদ তছরুপ করার অভিযোগে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে দেখা গেছে, নদী ভাঙ্গনের অজুহাতে জুলাই মাসে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ভেঙ্গে ফেলা হয়। একই সময়ে পরিষদের জায়গায় সরকারি গাছগুলোও কেটে ফেলা হয়। অথচ এর আড়াই মাস পর ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে বিলীন হয় ইউনিয়ন পরিষদের জায়গা ও ইট বিছানো রাস্তা। ভাঙ্গনে নয়াচর বাজারের অর্ধেক অংশ নদের গর্ভে হারিয়ে গেছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুস সালাম তালুকদার জানান, চেয়ারম্যান সরকারি কোনো নিয়ম মানেননি। প্রকাশ্যে সরকারি সম্পদ সে আত্মসাৎ করেছে। এজন্য এলাকাবাসি তার ওপর ক্ষুদ্ধ। বিষয়টির সুষ্ঠ তদন্ত হওয়া উচিৎ।
অন্যদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, অভিযোগগুলো সব মিথ্যা ভাই। আমার ইউনিয়ন পরিষদের টাকা পরিষদের একাউন্টে জমা করেছি। পরিষদের জমি কিনতে টাকা লাগবে তখন কে দিবে? তাছাড়া ভবন ভেঙ্গে ফেলা ও গাছ কাটা সব করা হয়েছে ইউএনও স্যারের মতামত নিয়েই।
এদিকে, এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম সহকারি জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু হোরায়রা সরেজমিনে তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় সহকারি জেলা প্রশাসক অভিযোগকারী, এলাকাবাসি ও অভিযুক্তের বক্তব্য গ্রহণ করেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে আবু হোরায়রা সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। সে অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

No comments:
Post a Comment